30 মার্চ 21

থ্যালাসিমিয়া পেশেন্টের নাম :-

কেয়া দাস, মেমারী, পূর্ব বর্ধমান ব্লাড গ্রুপ O নেগেটিভ ।প্রিয়াঙ্কা মিস্ত্রি, ব্লাড গ্রুপ O নেগেটিভ, পূর্ব বর্ধমান । দুইজনেই কালনা হসপিটালে ভর্তি হয়েছে, কিন্তু কালনা ব্লাড ব্যাংক থেকে এক ইউনিট O নেগেটিভ ব্লাড প্রোভাইড হয়। কিন্তু এক ইউনিট O নেগেটিভ ব্লাড দরকার ছিল, কিন্তু কালনা ব্লাড ব্যাংক থেকে প্রোভাইড করা যায়নি। O নেগেটিভ ব্লাড ডোনারের দরকার ছিল। নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ খুবই ক্রাইসিস।

অনেক চেষ্টা করার পর , কালনার বাসিন্দার মহির্ষমাদানী তলাতে বাড়ি। অর্ণব শিল। এক কথায় রাজি হয়ে যায়_ স্যার , আমি O নেগেটিভ ব্লাড থ্যালাসেমিয়া পেশেন্টকে দিতে পারব। অতএব দুইজনেরই O নেগেটিভ ব্লাড ব্যবস্থা হয়ে গেল , এরা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া রোগী। পরের মাসে আবার লাগবে O নেগেটিভ

কোন সহৃদয় ব্যক্তি, O নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের থাকেন, অবশ্যই এই নাম্বারে রিং করবেন_8972084560 কালনা হসপিটালের ব্লাড ব্যাংকের স্টাফেরা পার্থ বাবু ,রঘূদা, অন্য দাদারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ।
বারবার একই কথা আমি বলি_ বিশ্বজুড়ে রক্ত সংকট , কোভিড ১৯ আবহে রাজ্য জুড়ে রক্ত সংকট। রক্ত সংকট একদিনের কাহিনী নয়। কারণ বর্তমান অবস্থাতে করোনা ভাইরাসের ভয়ে রক্তদান করাটা যে মহৎ কাজটি অবলুপ্ত হয়েগেছে মানুষের মন থেকে। তাই বলে কি , কেউ দিচ্ছে না?

রক্ত দান করা মানুষের সংখ্যা খুব কম। মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপ দিয়ে রক্ত সংগ্রহ করা যায় না। যদি নিয়ম থাকত, রক্ত না দিলেই , রক্ত পাওয়া যাবে না। সে জায়গায় কোন অসুবিধে থাকতো না। এটা ব্যক্তিবিশেষের সমস্যা নয়, সমগ্র দেশের সমস্যা। কালনা ব্লাড ব্যাংক এর স্টাফ এবং সুপার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ও ব্লাড ব্যাংকের মেডিকেল অফিসার খুবই পেশেন্টের সাথে সহযোগিতা করেন।

কিন্তু কালনা হসপিটালের সুপার থ্যালাসেমিয়া কন্ট্রোল ইউনিট সম্পূর্ণভাবে এক্টিভেট করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবুও কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। তার মধ্যে সামান্য ধৈর্য, সৌজন্যবোধ, বিবেকবোধের উপর বিচার করে, ব্লাড ব্যাংকের উপর চাপ সৃষ্টি না করে, পেসেন্ট পাটিদের সহযোগিতা করা দরকার ।

বর্তমানে ব্লাড কার্ডএর দরকার নেই ,ডোনারের প্রয়োজন । ব্লাড ব্যাংক কোথায় রক্ত পাবে ? তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে অমান্য করা যায় না। আশা করছি, এবং আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস আগামী দিনে এমন সমস্যা আসবে না। আর আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন । রক্ত সম্বন্ধে আমরা যদি সচেতন হই, তবে রক্তের অভাব হবে না।

কায়মনোবাক্যে শপথ নিন যে , আমি রক্ত দিয়েই রক্ত সংগ্রহ করবো। তাহা হইলে রক্ত সংকট থাকবে না। আরেকটি কথা বলছি_ কিছু অধম ব্যক্তি আছে, মানুষকে ধোকা দিয়ে পয়সা ইনকাম করার কৌশল তৈরি করে রেখেছে।

থ্যালাসেমিয়া রোগীকে দেখিয়ে শহরে- শহরে ,ট্রেনে- রাস্তায়, অলিতে- গলিতে টাকা তোলে। একটা কথা বলতে পারি ‌। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্তের প্রয়োজন। টাকা নয় । তাই আপনারা সাবধান হোন । সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসা হয়। লোকাল মার্কেটে রক্ত পাওয়া যায় না । দয়া করে পয়সা দিবেন না।

জয় হিন্দ !